জগদীশ গুপ্ত / জগদীশ চন্দ্র সেনগুপ্ত (৫ জুলাই ১৮৮৬ — ১৫ এপ্রিল ১৯৫৭) ছিলেন ভারত উপমহাদেশের একজন বরেণ্য বাঙালি ঔপন্যাসিক ও ছোটগল্পকার। যদিও তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক, সাহিত্যিক জীবনের শুরুতে কবিতা লিখেছেন এবং একটি কবিতা সংকলন প্রকাশ করেছেন।
শৈশবকাল ও শিক্ষা
জগদীশ গুপ্ত জন্মগ্রহণ করেন ফরিদপুর জেলার খোর্দ মেঘচারমি গ্রামে। পিতা কৈলাশচন্দ্র গুপ্ত কুষ্টিয়া আদালতের বিশিষ্ট আইনজীবী ছিলেন। শৈশবকাল কেটেছে কুষ্টিয়ায়। তিনি কুষ্টিয়া হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। ১৯০৫ সালে কলকাতা সংস্কৃত কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন এবং পরবর্তীতে কলকাতা রিপন কলেজে ভর্তি হন। ১৯০৭ সালে এফ.এ পরীক্ষা দিয়ে কলেজের পাঠ ত্যাগ করেন। পরে কলকাতা কমার্শিয়াল ইন্সটিটিউট থেকে শর্টহ্যান্ড ও টাইপরাইটিং শিক্ষা গ্রহণ করেন।
কর্মজীবন
১৯০৮ সালে বীরভূম জেলার সিউড়ি জজকোর্টে টাইপিস্ট হিসেবে চাকরি শুরু করেন। কিছু বছর চাকরি করার পর উড়িষ্যার সম্বলপুরে একজিকিউটিভ এঞ্জিনিয়ারের অফিসে যোগ দেন। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় চাকরি ত্যাগ করেন। এরপর কলকাতায় “জাগো’স ইঙ্ক” নামে ফাউন্টেনপেনের কালি তৈরির কারখানা চালান, যা সফল হয়নি। ১৯২৭ সালে বোলপুরের চৌকি আদালতে আবারো টাইপিস্ট হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৭ বছর চাকরি করার পর ১৯৪৪ সালে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর কলকাতায় চলে যান এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।
সাহিত্যকর্ম
কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর তিনি ছোটগল্প ও উপন্যাসে বাংলা সাহিত্যে বিশেষ স্থান অর্জন করেন। ‘বিজলী’, ‘কালিকলম’, ‘কল্লোল’ প্রভৃতি পত্রিকায় তার গল্প প্রকাশিত হয়। গল্পের ক্ষেত্রে গভীর জীবনবোধ, চরিত্রচিত্রণ ও মনোবিশ্লেষণ তার রচনাকে সমৃদ্ধ করেছে। সামাজিক অন্যায়ের চেয়ে ভাগ্য ও দুঃখময়তা তার গল্পের কেন্দ্রবিন্দু।
গল্পগ্রন্থ
বিনোদিনী (১৩৩৪)
রূপের বাহিরে (১৩৩৬)
শ্রীমতি (১৩৩৭)
উদয়লেখা (১৩৩৯)
শশাঙ্ক কবিরাজের স্ত্রী (১৩৪১)
মেঘাবৃত অশনি (১৩৫৪)
স্বনির্বাচিত গল্প (১৩৫৭)
উপন্যাস
অসাধু সিদ্ধার্থ (১৩৩৬)
লঘুগুরু
দুলালের দোলা (১৩৩৮)
নিষেধের পটভূমিকায় (১৩৫৯)
কলঙ্কিত তীর্থ (১৩৬৭)
রোমন্থন
কবিতা-সঙ্কলন
অক্ষরা
মৃত্যু
জগদীশ গুপ্ত ১৫ এপ্রিল ১৯৫৭ সালে ইন্তেকাল করেন।
Read more